Monday, May 20, 2024
HomeEducationতরুণদের চোখে মহেশখালী

তরুণদের চোখে মহেশখালী

লেখার শুরুতে মহান আল্লাহর শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি এবং দরুদ প্রেরণ করছি মানবতার মুক্তির দিশারি সফল রাষ্ট্র নায়ক মহানবি হজরত মুহাম্মদ (স.) এর উপর।

আজকের বিষয়:- তরুণদের চোখে মহেশখালী।

মূল বিষয়ে যাওয়ার আগে শিরোনামটির একটু ব্যাখ্যা করা জরুরি বলে মনে করছি।

তরুণ:– সাধারণত তরুণ বলতে নির্দিষ্ট একটি বয়সে অবস্থানরত ব্যক্তিদের বুঝানো হয়। কিন্তু আমার দৃষ্টিতে তরুণ বলতে বুঝায়- যার মধ্যে সৌন্দর্য সজীবতা জীবনীশক্তি উদ্দীপনা ও যুদ্ধ জয়ের মানসিকতা ইত্যাদি থাকে।

চোখ:– চোখ বলতে সাধারণত চর্মের গর্তদ্বয় বুঝানো হয় যা ললাটের নিচে ও নাকের উপরে অবস্থিত। আমি মনে করি মানুষের চিন্তা চেতনা ভাবনা দূরদর্শিতা ইত্যাদিও চোখের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

মহেশখালী:- মহেশখালী বলতে বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ ও ডিজিটাল আইল্যান্ডকে বুঝানো হয়েছে। যার আয়তন ৩৮৮.৫০ বর্গ কিলোমিটার বা ১৫০.০০ মাইল।
প্রাসঙ্গিক কারণে তার নাম করণের ইতিহাসটুকুও সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

অধ্যাপক ড.সুনীতি ভূষণ কানুনগোর মতে
১৫৫৯ সালে প্রচন্ড ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এই দ্বীপটির সৃষ্টি হয়।
ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড.সুনীতি ভূষণ কানুনগো তার রচিত “চট্টগ্রামে মগ শাসন” গ্রন্থে উল্লেখ করেন যে,১৫৮০ সালে দক্ষিণ চট্টগ্রামে আরকানি শাসন শুরু হলে মূল ভূখন্ড থেকে পৃথক থাকার কারণে মহেশখালী দ্বীপের উপর শাসক গোষ্ঠীর কোন নিয়ন্ত্রণ ছিল না। মূলত কোম্পানির শাসনামলে দ্বীপটিতে ইংরেজদের নজর পড়ে।

১৭৭৯ সালে রবার্ট ওয়ারলেজ নামক জনৈক ইংরেজ কর্মচারী বন্দোবস্তি নেওয়ার জন্য আবেদন করলে ১৭৮২ সালে চট্টগ্রামে দ্বীপটির বন্দোবস্তি সংক্রান্ত দলিল সম্পাদিত হয়।

১৭৮২ সালে ২০ শে নভেম্বর রবার্ট ওয়ারলেজ কালেক্টর চার্লস ক্রাফটস এর কাছে বিশ হাজার টাকার বিনিময়ে দ্বীপটি হস্তানান্তর করেন।
কিন্তু তিনি যোগাযোগ ব্যবস্থার অসুবিধার কারণে দ্বীপটি স্থানীয় দেওয়ান কালিচরণ কানুনগোর কাছে চল্লিশ হাজার টাকার বিনিময়ে মালিকানা হস্তান্তর করেন।

১৭৯০ সালে তার মৃত্যু হলে দ্বীপটির মালিক হন তার স্ত্রী প্রভাবতী।
কালিচরণ কানুনগো নিঃসন্তান ছিলেন।
তাই তিনি চন্ডি চরণকে দত্তক পুত্র নিয়েছিলেন।
চন্ডি চরণকে দত্তক নেওয়া মায়ের জীবদ্দশায় শরৎচন্দ্র নামক একজন পুত্র ছেলে রেখে মারা যান।

১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সময় শরৎচন্দ্র অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় প্রভাবতীর নামে বন্দোবস্থ হয়। পরে শরৎচন্দ্র মহেশখালী দ্বীপের প্রজাবৎসল জমিদার হন।

পাকিস্তান সৃষ্টির পর ১৯৫০ সালে নূরুল আমিন সরকার কর্তৃক জমিদারী প্রথার বিলোপ ঘোষণার পূর্ব পর্যন্ত শ্রীযুক্ত বাবু অজিত কুমার রায়, বাহাদুর চৌধুরী মহেশখালী দ্বীপের জমিদার ছিলেন।
বাবুদের মূল বাড়ি ছিল চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা উপজেলার পবৈচোড়া গ্রামে।

সেই দ্বীপটির নামকরণের ইতিহাসও বিভিন্ন রকম পাওয়া যায়।

কথিত আছে, ছোট মহেশখালীর তৎকালীন এক প্রভাবশালী বাসিন্দা নূুর মুহাম্মদ সিকদার। মাঝেমধ্যে পাহাড়ে শখের বসে হরিণ শিকার করতে যেতেন। একদিন হরিণ শিকার করতে গিয়ে সারা দিন এদিক সেদিক ঘুরেও কোন শিকারের সন্ধান না পেয়ে ক্লান্ত মনে একটি গাছের নিচে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন।
হঠাৎ কিছু একটার শব্দে তার তন্দ্রা টুটে যায়। শব্দ অনুসরণ করে তিনি দেখতে পান যে, একটি গাভী একটি মসৃণ শিলার উপর দুধ ঢালছে। উল্লেখ্য যে এই গাভীটি কিছু দিন আগে তারই গোয়াল ঘর থেকে হারিয়ে যায়। গাভী আর সেই শিলাটি নিয়ে তিনি বাড়ি ফিরেন।
সেদিন রাতে তিনি স্বপ্নে দেখলেন যে,শিলা খন্ডটি একটি দেব বিগ্রহ।
এ বিগ্রহ যেখান থেকে নিয়ে এসেছেন সেখানে রেখে একটি মন্দির নির্মাণ করতে হবে। এই মন্দিরের নাম হবে আদিনাথ মন্দির।

শিবের ১০৮ নামের মধ্যে মহেশ অন্যতম।
আর এই মহেশ নাম হতেই পরবর্তীতে মহেশখালী হয়ে যায়।
অনেকে ধারণা করেন যে এই দ্বীপটি ২০০ বছর আগে বৌদ্ধ সেন মহেশ্বর দ্বারাই মহেশখালী নামে পরিচিত হয়ে উঠেন।

সেই দ্বীপটির প্রশাসনিক বর্ণনা, নয়টি ইউনিয়ন পরিষদ আছে একটি থানা,একটি পৌরসভা ও একটি উপজেলা আছে। নয়টি ইউনিয়নের নাম হলো যথাক্রমে মাতার বাড়ি, ধলঘাটা,কালার মার ছড়া,হোয়ানক,বড় মহেশখালী,কুতুবজোম,ছোট মহেশ খালী,শাপলাপুর ও গোরকঘাটা।
এই দ্বীপের মানুষের প্রধান আয়ের উৎস হলো মিষ্টি পান চাষ,লবন,চিংড়ি, কৃষি ক্ষেত ইত্যাদি।

তরুণদের চোখে মহেশখালী

মহেশখালী নিয়ে তরুণদের ভাবনা।
আমিও একজন তরুণ হিসেবে নিজের মতামতটা পয়েন্ট আকারে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

নেতিবাচক আলোচনা ও তার প্রতিকার:-

ক.মাদক সমস্যা।
বর্তমানে আমাদের যুব সমাজ দিনদিন মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে। তারা প্রতিনিয়তই নিজেদের মেধা-বুদ্ধি, নীতি-নৈতিকতা সবকিছু হারিয়ে মেধা শূন্য ও পশুত্বে রুপ নিচ্ছে। অধিকাংশ তরুণ বিড়ি সিগারেট এর প্রতি প্রবল আসক্ত হয়ে পরবর্তীতে মদ গাঁজা ইয়াবাসহ ইত্যাদি সেবন করে নিজেকে মৃত্যুর দিকে ঢেলে দিচ্ছে। যা তাদের নেশায় পরিনত হওয়ায় তার টাকা জোগাড় করতে রোজ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজের সাথে জড়িয়ে পড়ছে ফলে আমাদের মহেশখালীতে দিনদিন অপরাধের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে।

২০১৮ সালের ২১ মে প্রচারিত বিবিসি বাংলার তত্ত্ব অনুযায়ী বাংলাদেশে মাদকসেবির সংখ্যা ৭০ লাখ। যার অধিকাংশ তরুণ। যা ভবিষ্যতে আমাদের হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

খ.নিরক্ষরতা।
নিরক্ষরতা একটি অভিশাপ। নিরক্ষরতা বলতে বুঝায়,কোন ব্যক্তির পড়তে ও লিখতে না পারার অক্ষমতাকে। মহেশখালীর কৃতিসন্তান ড়.সলিমুল্লাহ এক টকশোতে বলেছিলেন মহেশখালীতে সাক্ষরতার হার ৩০%
তার অর্থ দাঁড়ায় নিরক্ষরতার হার ৭০% যা আমাদের জন্য খুবই বেদনাদায়ক ও লজ্জাকর একটি অধ্যায়।

মহেশখালীর ছাত্র সমাজ ও শিক্ষক বা শিক্ষিত ব্যক্তিরা নিরক্ষরতা দূরীকরণে এগিয়ে না আসলে ভবিষ্যতে আমরা নেতা শূন্য ও দক্ষ ব্যক্তি পাবো না। যা আমাদের অপূরণীয় ক্ষতি হবে। শিশু শ্রম বন্ধ করে বাচ্চাদের স্কুল কলেজ মাদ্রাসায় পাঠিয়ে প্রথমিক ও মৌলিক শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা দরকার। না হলে দিনদিন নিরক্ষরতার হার বাড়তে থাকবে ফলে সাক্ষরতার হার কমে যাবে।

গ.যোগাযোগ ব্যবস্থা।
কোন রাষ্ট্র বা জনপদ উন্নত হওয়ার জন্য তার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়া অপরিহার্য। কিন্তু আমাদের মহেশখালী তার ব্যতিক্রম। ডিজিটাল আইল্যান্ড হওয়ার পরেও এখনো যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল দশা রয়ে গেছে।
মহেশখালীর যোগাযোগ ব্যবস্থা কেমন তা একটি ছোট্ট ঘটনার মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।
দিনটি ছিল জুমাবর। জুমাবার রাষ্ট্রীয়ভাবে বন্ধ ঘোষণা করায় প্রতিটি সরকারি বেসরকারি শিক্ষক ছাত্র কর্মচারীসহ রেস্ট বা আরাম আয়েশে ব্যস্থ থাকে। রাস্তাঘাটে তেমন মানুষও নজরে পড়ে না। ছাত্ররাও বল ব্যাট ইত্যাদি খেলার সরঞ্জাম নিয়ে ছুটির দিনটিতে মনের অানন্দে খেলার জন্য মাঠে ময়দানে পাগলা তুরঙ্গমের মতো ছুটে চলে অবিরাম।
জুহুরের ঠিক একটু পরে একটি মায়ের প্রসব বেদনা শুরু হয়। আমাদের মহেশখালীতে হাসপাতালের যথেষ্ট অভাব বললেই চলে। প্রসববেদনায় কাতর মা’টিকে স্থানীয়/গ্রাম্য ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী তার নিজ গ্রাম হোয়ানক থেকে মহেশখালী হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। রাস্তার উঁচু নিচু ক্ষত বিক্ষত দৃশ্য সেই মা’টিকে আর ক্ষমা করেনি। গাড়ির খেঁচুনি আর অতিরিক্ত নড়াচড়ার কারণে হাসপাতালে যাওয়ার আগেই মাঝপথে বাচ্চা প্রসব হয়ে যায়। গাড়ির অতিরিক্ত নড়াচড়ার কারণে প্রসবের পর এক পার্যায়ে সদ্য জন্ম নেওয়া নিষ্পাপ শিশুটি আমাদের দায়িত্ব অবহেলার বলি হয়ে এই সুন্দর পৃথিবীর আলো দেখার আগেই পরপারে পাড়ি জমায়। যা আমাদের জন্য খুবই বেদনাদায়ক ও লজ্জাকর।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ এগিয়ে না আসলে এই সমস্যা যুগ থেকে যুগ ধরে আরো হাজারো মায়ের বুক খালি করে দিবে। তাই সবাইকে নিজের অধিকার আদায়ে সোচ্চার এবং সচেতন হতে হবে।

ঘ. সন্ত্রাসবাদ/ গ্রুপিং
বাংলাদেশে মিষ্টি পানের আড়ৎ হিসেবে আমাদের মহেশখালী সমাদৃত হলেও সন্ত্রাসী হামলা খুনাখুনি রাহাজানি ইত্যাদি খারাপ বিশেষণের তকমা আমাদের থেকে কোনমতেই আলাদা করা যাচ্ছে না। স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় প্রায় প্রতিদিন আমাদের সন্ত্রাসী হামলা ও খুনাখুনির খবর শিরোনাম হচ্ছে। ফলে আমাদের মান মর্যাদা ইজ্জত আব্রু দিনদিন ভুলুন্ঠিত হচ্ছে।
নিজের ছেলে আপন মা বাবা ও ভাইসহ একই সময়ে তিনজনকে নৃশংসভাবে খুন করার কাহিনিটাও আমাদের মহেশখালীর হোয়ানকে ঘটেছে।
তাছাড়া একটি আমের জন্য মহেশখালীতে আপন ভাইকে খুন করার মতো ইতিহাসও রয়েছে। খুন করা আমাদের মহেশখালীর কিছু মানুষের নিত্যদিনের আলুভর্তায় পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন গ্রুপ ও নেতাদের ছায়াতলে থেকে এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড নির্ভয়ে চালাচ্ছে কিছু স্বার্থপর লোক।
প্রশাসনের কড়া নজরদারির অভাবে এবং ক্ষমতাশীল ব্যক্তিদের প্রশ্রয়ে এসব করতে সক্ষম হচ্ছে বলে ধারণা করা হয়।
তাই প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাগণ এসব বিষয়ে কঠোর নজরদারি করলে আশা করি এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে সমক্ষ হবো। ইনশাআল্লাহ।

ঙ. পরিবেশ রক্ষা বনাম বন/পাহাড় নিধন।

সরকারের বিদ্যুৎবিষয়ক মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৪১ সাল নাগাদ সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎকেন্দ্র হবে মহেশখালীতে—কয়লাভিত্তিক ১২টি, বায়ুভিত্তিক ১টি ও সৌরশক্তির ২টি। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) একটি স্থল টার্মিনাল হবে।
এর জন্য মহেশখালীর সর্বমোট ৮৬ হাজার একর জমি থেকে প্রথমে সাড়ে ১৯ হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করলেও প্রধন আলোর ভাষ্যমতে ২৭ হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করছে বর্তমানে। যা আমাদের পরিবেশের জন্য খুবই মারাত্মক হবে বলে মনে করছি।

ঐসব প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য ইতোমধ্যে পাহাড় নিধনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গছে।
পাহাড়কে আল্লাহ পেরেক হিসাবে তৈরি করেছেন। বিশেষ করে দ্বীপের জন্য পাহাড় থাকা খুবই প্রয়োজন। না হয় ভারসাম্য হারিয়ে পরিবেশ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা প্রখর।
এই সব উন্নয়নের নামে আমাদের পরিবেশ ধ্বংস ও জমি অধিগ্রহণের নামে আমাদের নিঃস্ব করে দিচ্ছে। যার খেসারত আমাদের একদিন দিতেই হবে।
কিছু দালাল আর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণের লোভের বলি হয়ে আমাদের এই অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। জনগণ সচেতন না হলে হয়তো একদিন সবুজ শ্যামল এই দ্বীপটি ছেড়ে চলে যেতে হবে।

চ.পান ও লবণের মূল্য হ্রাস।
পান ও লবণ দুটোই অর্থ উপার্জনকারী পণ্য।
মহেশখালী মিষ্টি পানের জন্য খ্যাত। এই পান শিল্প থেকে বছরে প্রায় আড়াইশ কোটি টাকা উপার্জন করা হয়। কিন্তু তার যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ না করার ফলে দিনদিন তা হ্রাস পাচ্ছেন। যথাযথ মূল্য না পাওয়ায় কৃষকরাও তার খেত বা বরজ করতে অনুৎসাহিত হয়ে পড়ছে।
সরকার এই বিষয়ে কার্যকরী কোন পদক্ষেপ না নিলে এইভাবে হয়তো একদিন এই শিল্পটা ধ্বংস হয়ে যাবে আমাদের চোখের সামনেই।

আর বাংলাদেশে লবণ প্রস্তুতকারক সমিতির হিসাব অনুযায়ী দেশে বছরে লবণের চাহিদা ১৭ লাখ টন। এর প্রায় অর্ধেক আসে আমাদেরও মহেশখালী থেকে। কিন্তু বড়ো দুঃখের ব্যাপার হলো জমি অধিগ্রহণের নামে আমাদের এই লবণ শিল্পটা বর্তমানে ধ্বংসের ধার প্রান্তে। তাড়াছা আমাদের কৃষকরা লবণের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে লবণ চাষ করতে অনুৎসাহিত পড়ছে। যা আমাদের দেশবাসীর জন্য ক্ষতি হবে।
তাই সরকার যদি এর কোন সুন্দর সুরাহা করে তাহলে আমরাসহ দেশবাসীর উপকার হবে।

ছ.চিংড়ি ও কাঁকড়া চাষ।
আমাদের মহেশখালীতে প্রায় স্থানে চিংড়ি ও কাঁকড়া চাষ করে বহু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে প্রতি বছর। কিন্তু জমি অধিগ্রহণের ফলে এইসব শিল্পে ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।
আমাদের অধিকাংশ লোক কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল। যদি এইসব শিল্প ধ্বংস হয়ে যায় তখন তাদের আয় উপার্জনে যথেষ্ট প্রভাব পড়বে তখন মানুষ পেঠের দায়ে চুরি ডাকাতি ইত্যাদি করতে বাধ্য হবে। ফলে আমাদের সম্প্রীতি সৌন্দর্য বিলিন হয়ে যাবে।

জ.শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা।
আমাদের মহেশখালীতে প্রায় পরিবার মধ্যবৃত্তের কোটায়। যার কারণ তাদের সন্তানদের পড়ালেখার খরচ সঠিকভাবে জোগাড় করতে পারে না। ফলে অনেকই বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া থেকে বঞ্চিত হয়। আর কিছু কিছু ছাত্র কয়েক ক্লাস পড়লেও টাকার অভাবে সামনে এগুতে না পেরে পড়ালেখা বাদ দিয়ে বাবার সাথে হাল ধরতে মাঠে নেমে যায় ফলে খুব অল্প বয়সেই তাদের পড়ালেখা ইতি টানতে হয়। যদি সরকার শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করে এবং ধনীরা সহযোগীতায় এগিয়ে আসে তাহলে এই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি।

ঝ.পর্যটন স্থানগুলো সংরক্ষণ করা।
আমাদের মহেশখালীতে যেসব দর্শনীয় স্থান রয়েছে যেমন আদিনাথ ও সোনাদিয়া দ্বীপ ইত্যাদি সরকারিভাবে সংরক্ষণ করাটা অতিব জরুরি হয়ে পড়ছে। না হয় এই সব বিনোদনের জায়গা একদিন হারিয়ে যাবে। আমাদের সন্তানদের উপভোগের কোন দর্শনীয় স্থান অবশিষ্ট থাকবে না।

পরিশেষে বলতে পারি মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত শান্তি সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং পরিবেশের ভারসাম্যময় একটি ডিজিটাল আইল্যান্ড প্রত্যাশা করছি।

লেখকঃ মুহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ

৪র্থ বর্ষ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

Related News
- Advertisment -

Popular News

error: Content is protected !!