Monday, May 27, 2024
HomeEducationআসন্ন বিপ্লব প্রতিবিপ্লব

আসন্ন বিপ্লব প্রতিবিপ্লব

লাতিন শব্দ revolution এর ইংরেজী অর্থ turn around. ইংরেজীতে একে Revolution বলে। একটি বিপ্লব হচ্ছে রাজনৈতিক ক্ষমতা বা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে একটি মৌলিক সামাজিক পরিবর্তন যা তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত সময়ে ঘটে। আরো সহজ করে বলতে গেলে বলা যায় সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যখন রাতারাতি আমূল পরিবর্তন ঘটে তখন সেটাকে আমরা বিপ্লব বলতে পারি। তবে সেক্ষেত্রে কিছু শর্ত ও রয়েছে। বিপ্লব সম্পর্কে কার্ল মার্কস ও ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস বলেছেন ” সামাজিক সম্পর্কের গুণগত পরিবর্তনই বিপ্লব”। আবার ইংরেজি counterrevolution এর বাংলা অর্থ হচ্ছে প্রতিবিপ্লব। এই টার্মটি revolution এর সম্পূর্ণ বিপরীত। বিপ্লবকে প্রতিহত করতে যে বিপ্লব সংগঠিত হয় তাকেই প্রতিবিপ্লব বলা হয়। পৃথিবীর ইতিহাসে এযাবতকালে অনেক সফল বিপ্লবের কথা আমরা জানি। আবার অনেক বিপ্লবের প্রতিবিপ্লব ও পৃথিবী প্রত্যক্ষ করেছে। আমাদের সবার প্রিয় মাতৃভূমি পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ হয়েছে একটি বিপ্লবের মাধ্যমে। উপরে আমরা দেখেছি বিপ্লবের সময়কালটা খুবই সল্প। বিপ্লবের সময়কাল সল্প হলেও বিপ্লবের প্রস্তুতি অনেক দীর্ঘ সময়ের। কিছু সামগ্রিক বিষয়ে একটি গোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের অসন্তোষ, ঘৃণা, দুঃখ জমতে জমতে আকষ্মিকভাবে বিপ্লবে পরিণত হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিপ্লব প্রত্যক্ষ করলে আমরা তা উপলব্ধি করতে পারব। বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামে আপমর জনসাধারণের যে অংশগ্রহণ তা দীর্ঘদিনের শোষনের, অন্যায়ের ও অবিচারের বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। আবার প্রতিবিপ্লবের উদাহরণ যদি দিতে যাই তাহলে ১৯৭৫ সালের নির্মম হত্যাকাণ্ডের কথা বলা যায়। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে একটি সফল বিপ্লবের মধ্য দিয়ে। আর বিপ্লবের সফলতাকে প্রতিহত করতে প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর ১৯৭৫ এ যে হত্যাকান্ড তাকে প্রতিবিপ্লবই বলা হয়। খুনী চক্র আবার একে বিপ্লব ও বলে৷ সেক্ষেত্রে তাদের যুক্তি হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে দেশে খুন খারাবি, চিনতাই, ক্ষমতার অপব্যবহার সহ নানা কুকর্ম বেড়ে গিয়েছিল। যার কারণে একটি বিপ্লব অনিবার্য হয়ে ওঠে। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ছোট বড় অনেক বিপ্লব প্রতিবিপ্লবের সম্মুখীন হয়েছে। দেশে বর্তমানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিরাজ করতেছে। আওয়ামীলীগ শাসনামলে ২০০৮ সাল থেকে ২০২০ সাল মোট বারো বছরে দু’একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া বড় কোন ঘটনা ঘটেনি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ ও হেফাজতে ইসলামের ঐতিহাসিক লং মার্চ। কিন্তু এ ঘটনাগুলো এদেশের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বড় কোন পরিবর্তন ঘটায়নি। বড় কোন ঘটনা বা দূর্ঘটনা না ঘটলেও দেশ যে একবারে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে তা কিন্তু নয়। দেশে সাধারণ পণ্যের দাম উর্ধ্বমুখী, সেবা খাতের ট্যাক্স আকাশচুম্বী, সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে দূর্নীতির বাম্পার ফলন, কালোবাজারি, চাঁদাবাজি, চোরাচালান, মাদকপাচার, খুন, গুম ও ধর্ষণ নিত্য বেড়েই চলছে। সরকারের রন্দ্রে রন্দ্রে দূর্নীতিতে মানুষ অতিষ্ঠ। মানুষের মনে ধীরে ধীরে ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে। মানুষ যেখানেই যায় শুধুই সরকারে সমালোচনা করে৷ সাধারণ মানুষের শুধু হায় হায় ভাব। আগের বিপ্লব প্রতিবিপ্লবের প্রেক্ষাপট বিচার করলে মনে হবে আমরা বর্তমানে বিপ্লবের পূর্ব পর্বে বিরাজমান। যেকোনো সময় মানুষের ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। এটা দেশের ও সরকারের জন্য অশনি সংকেত। বিপ্লব প্রতিবিপ্লবে আমরা একটি গোষ্ঠীকে সরিয়ে অন্য একটি গোষ্ঠীকে ক্ষমতায় বসাই। কিন্তু গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সব রাজনৈতিক দলের আচরণ একই। যা বর্তমানে পুরো বিশ্বে চলমান। তাই দেশের এ আসন্ন সংকটকে প্রতিহত করতে সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনায় আরো দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। সেক্ষেত্রে নিচের কর্মকান্ডগুলো সরকারের অনুসরণীয় হতে পারে –

১. নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য সহনশীল পর্যায়ে নামিয়ে আনা
২. সেবাখাতে অতিরিক্ত ট্যাক্স নির্ধারণ বন্ধ করা
৩. সরকারি বেসরকারি অফিসের দূর্নীতির লাগাম টানা
৪. খুন, গুম ও ধর্ষণের বিরুদ্বে জিরো টলারেন্স বাস্তবায়ন করা।
৫. বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসা।
উপরোক্ত কর্মতালিকা বাস্তবায়ন করতে পারলে গণ অসন্তোষ দূর করা সম্ভব হবে। আর আরো একটি বিপ্লবের সম্ভাবনা ও দূর হবে।

Related News

3 COMMENTS

  1. […] চারদিকে মানুষের লাশ,হিন্দুর বুকে মুসলিম লাশ আবার মুসলিমের বুকে হিন্দুর লাশ শুয়ে পড়ে আছে। আবার অনেকের জাত চেনাও কঠিন হয়ে গেছে।বেঁচে থাকা মানুষ গুলো লাশের দিকে থাকিয়ে ভাবছে আর ভাবছে “কি এতো জাতের ভাগ”। […]

Comments are closed.

- Advertisment -

Popular News

error: Content is protected !!