Saturday, May 18, 2024
HomeIslamicসাওম শব্দের অর্থ কি? ইসলামে সাওমের গুরুত্ব গুলো কি কি

সাওম শব্দের অর্থ কি? ইসলামে সাওমের গুরুত্ব গুলো কি কি

সাওম صوم শব্দের অর্থ বিরত থাকা দূরে থাকা সংযত থাকা ইত্যাদি। এর বহুবচন صيام।

ইসলামের পরিভাষায় সাওম বলা হয় সুবহে সাদিক হতে সুর্যাস্ত পর্যন্ত যাবতীয় পানাহার ও স্ত্রী সম্ভোগ হতে নিজেকে বিরত রাখার নামই হলো সাওম।

সাওম এর লক্ষ্য উদ্দেশ্যঃ সাওমের লক্ষ্য উদ্দেশ্য লক্ষ্য করে আল্লাহ বলেনঃ

يٰٓـاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا كُتِبَ عَلَيْکُمُ الصِّيَامُ کَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِيْنَ مِنْ قَبْلِکُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَۙ

হে মু’মিনগণ! তোমাদের জন্য সিয়ামের বিধান দেওয়া হইল, যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীগণকে দেওয়া হইয়াছিল, যাহাতে তোমরা মুত্তাকী হইতে পার।

সিয়ামের প্রকারভেদঃ সিয়াম প্রথমত চার প্রকার-ফরজ,নফল,মকরুহ, হারাম।

১. ফরজ সিয়াম আবার তিন প্রকার

-(ক) রমজানের সিয়াম।
-(খ) কাফফারার সিয়াম।
-(গ) মান্নতের সিয়াম।

২. নফল সিয়াম-

ক.শাওয়াল মাসের ৬টি।
খ,জিলহজ মাসের প্রথম দশদিন বিশেষ করে আরাফাতের দিন রোজা।গ,মুহাররম মাসের সাওম।বিশেষ করে আশুরার দিন ও তার আগের ও পরেরদিন সাওম।
ঘ,শাবান মাসের বেশিরভাগ দিন সাওম পালন করা।
ঙ,আইয়ামে বীজ অর্থাৎ প্রতি মাসের ১৩,১৪,১৫তারিখ সাওম পালন করা।

৩. হারামা রোজা–

দুই ঈদের দিন সাওম পালন করা ও আইয়ামে তাশরীক তথা কোরবানির ঈদের পরের তিনদিন রোজা রাখা।

৪. মাকরুহ সাওম–

শুধু জুমার দিন খাস করে সাওম পালন করা। কারণ হাদিসে বর্ণিত আছে
عن ابي هريرة رضي عنه. قال قال رسول الله صلي الله عليه وسلم. لا يصوم احدكم يوم الجمعة الا ان يصوم قبله او يصوم بعده.. ([بخاري]

হযরত আবু হুরায়রা (রা)বর্ণিত রাসুল সাঃ ইরশাদ করেন। জুমার দিন কেউ যেন সাওম না রাখে।কিন্তু কেউ যদি জুমার দিনের একদিন আগে বা পরে রাখে তাহলে জুমার দিন সাওম পালন করতে অসুবিধা নেই।

ইসলামী শরীয়তে রমজানের সাওমের বিধান–

রমাজানের সাওম ফরজ। এটি ইসলামী শরিয়তের পঞ্চস্তম্ভের একটি।কোরান এবং হাদিস দ্বারা এটি প্রমাণিত। আল্লাহ তায়ালা বলেন-

يٰٓـاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا كُتِبَ عَلَيْکُمُ الصِّيَامُ کَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِيْنَ مِنْ قَبْلِکُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَۙ
হে মু’মিনগণ! তোমাদের জন্য সিয়ামের বিধান দেওয়া হইল, যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীগণকে দেওয়া হইয়াছিল, যাহাতে তোমরা মুত্তাকী হইতে পার-

সূরা বাকারাহ , আয়াত নম্বরঃ ১৮৩

সিয়ামের রোকন সমুহ–

সিয়ামের রোকন বা ফরজ দুইটি যথা-

১. নিয়্যত করা।ইবাদাতের ক্ষেত্রে যেরকম নিয়্যত করা ফরজ তেমনি সাওমের ক্ষেত্রেও ফরজ।আল্লাহ পবিত্র কোরানে বলেন–

وَمَاۤ اُمِرُوْۤا اِلَّا لِيَعْبُدُوا اللّٰهَ مُخْلِصِيْنَ لَـهُ الدِّيْنَ ۙ
তাহারা তো আদিষ্ট হইয়াছিল আল্লাহ্‌র আনুগত্যে বিশুদ্ধ চিত্ত হইয়া একনিষ্ঠ ভাবে তাঁহার ইবাদত করিতে।

সূরা বাইয়্যেনাহ, আয়াত নম্বরঃ ৫

২. সিয়াম বিনষ্টকারী কাজকর্ম থেকে নিজেকে বিরত রাখা।অর্থাৎ সুবহে সাদিক হতে সুর্যাস্ত পর্যন্ত যাবতীয় পানাহার ও স্ত্রী সম্ভোগ থেকে নিজেকে বিরত রাখা। আল্লাহ তায়ালা বলেন-

فَالْـــٰٔنَ بَاشِرُوْهُنَّ وَابْتَغُوْا مَا کَتَبَ اللّٰهُ لَـكُمْ وَكُلُوْا وَاشْرَبُوْا حَتّٰى يَتَبَيَّنَ لَـكُمُ الْخَـيْطُ الْاَبْيَضُ مِنَ الْخَـيْطِ الْاَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ‌ؕ ثُمَّ اَتِمُّوا الصِّيَامَ اِلَى الَّيْلِ‌ۚ –

সুতরাং এখন তোমরা তাহাদের সঙ্গে সংগত হও এবং আল্লাহ্ যাহা তোমাদের জন্য নির্ধারণ করিয়াছেন তাহা কামনা কর। আর তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ রাত্রির কৃষ্ণরেখা হইতে ঊষার শুভ্ররেখা স্পষ্টরূপে তোমাদের নিকট প্রতিভাত না হয়। অতঃপর নিশাগম পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ কর।

সূরা বাকারাহ , আয়াত নম্বরঃ ১৮৭।

সিয়ামের জন্য ক্ষতিকর এমন কাজ পরিহার করা —

যেমন মিথ্যা কথা বলা।

মিথ্যা বলা পরিহার করা পবিত্র মাহে রমজানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

عن ابي هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلي الله عليه وسلم من يدع قول الزور والعمل به فليس لله حاجة في ان يدع طعامه وشرابه.. ([بخاري]

গীবত তথা পরনিন্দা থেকে বিরত থাকা–

وَلَا يَغْتَبْ بَّعْضُكُمْ بَعْضًا‌ ؕ اَ يُحِبُّ اَحَدُكُمْ اَنْ يَّاْكُلَ لَحْمَ اَخِيْهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوْهُ‌ ؕ وَاتَّقُوا اللّٰهَ‌ ؕ اِنَّ اللّٰهَ تَوَّابٌ رَّحِيْمٌ

তোমরা একে অপরের পশ্চাতে নিন্দা করিও না। তোমাদের মধ্যে কি কেহ তাহার মৃত ভ্রাতার গোশ্ত খাইতে চাইবে? বস্তুত তোমরা তো ইহাকে ঘৃণ্যই মনে কর। তোমরা আল্লাহ্‌কে ভয় কর; আল্লাহ্ তওবা গ্রহণকারী, পরম দয়ালু।

সূরা হুজুরাত আয়াত নম্বরঃ ১২।

  • ঝগড়া বিবাদ থেকে দূরে থাকা।
  •  হাসাদ তথা পরশ্রীকাতরতা থেকে বেঁচে থাকা।
  • কারো প্রতি খারাপ ধারণা পোষণ না করা।
  • কারো দোষত্রুটি অন্বেষণ না করা।
  • কারো নিন্দা বা বিদ্রূপ না করা।

রমজান মাসের বিশেষ ফজিলত —

১. কোরান নাজিল হওয়া। আল্লাহ তায়ালা বলেন-

شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِىْٓ اُنْزِلَ فِيْهِ الْقُرْاٰنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَ بَيِّنٰتٍ مِّنَ الْهُدٰى وَالْفُرْقَانِۚ.

রামাযান মাস, ইহাতে মানুষের দিশারী এবং সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারী রূপে কুরআন অবতীর্ণ হইয়াছে।

সূরা বাকারাহ, আয়াত নম্বরঃ ১৮৫

২. এ মাসে লাইলাতুলকদর যা হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। আল্লাহ তায়ালা বলেন-

اِنَّاۤ اَنْزَلْنٰهُ فِىْ لَيْلَةِ الْقَدْرِ ۖ
وَمَاۤ اَدْرٰٮكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِؕ
لَيْلَةُ الْقَدْرِ ۙ خَيْرٌ مِّنْ اَلْفِ شَهْرٍؕ
تَنَزَّلُ الْمَلٰٓٮِٕكَةُ وَالرُّوْحُ فِيْهَا بِاِذْنِ رَبِّهِمْ‌ۚ مِّنْ كُلِّ اَمْرٍ
سَلٰمٌ  ۛهِىَ حَتّٰى مَطْلَعِ الْفَجْرِ

নিশ্চয়ই আমি কুরআন অবতীর্ণ করিয়াছি মহিমান্বিত রজনীতে;আর মহিমান্বিত রজনী সম্বন্ধে তুমি কী জান ?
মহিমান্বিত রজনী সহস্র মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।সেই রাত্রিতে ফিরিশতাগণ ও রূহ্ অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক কাজে তাহাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে।শান্তিই শান্তি, সেই রজনী ঊষার আবির্ভাব পর্যন্ত। (সুরা ক্বাদর)

৩. এ মাসে শয়তান কে বন্ধি করা হয়।
৪. এ মাসে অনেক মানুষ কে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।
৫. এ মাসে জান্নাতের দরজা সমুহ খুলে দেওয়া হয়।
৬. এ মাসে জাহান্নামের দরজা সমুহ করে দেওয়া হয়।
৭. এটি তাওবার মাস।

এ সাওম মাসে যা করণীয়—-

১. সাওম পালন করা।
২. তারাবিহর নামাজ আদায় করা।
৩. দান সাদকা করা।
৪. সিয়াম পালনকারী কে ইফতার করানো।
৫. বেশি বেশি কোরান তেলাওয়াত করা।
৬. ইতেকাফ পালন করা।

পরিশেষঃ

একথা বলতে হয় যে সাওম আল্লাহর পক্ষ হতে বান্দার জন্য বিশেষ উপহার। বান্দা সাওমের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য হাসিল করতে পারে।কারণ একমাত্র সাওমের পুরস্কার আল্লাহ নিজ হাতে সাওম পালনকারী কে দিবেন। অন্যান্য ইবাদাতের পুরস্কার ফেরেশতাদের মাধ্যমে দিবেন।তাই সাওমের গুরুত্ব অপরিসীম। সাওমের পবিত্রতা বজায় রাখা আমাদের সকলের উচিত।

 

লেখকঃ

মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম

প্রাক্তন শিক্ষার্থীঃ

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ,

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

Related News
- Advertisment -

Popular News

error: Content is protected !!