Monday, May 20, 2024
HomeNewsরক্ষক যখন ভক্ষক;বেড়িবাঁধ ঘেঁষে বালু উত্তোলন,অস্তিত্ব সংকটে উপকূলীয় অঞ্চল

রক্ষক যখন ভক্ষক;বেড়িবাঁধ ঘেঁষে বালু উত্তোলন,অস্তিত্ব সংকটে উপকূলীয় অঞ্চল

মোহাম্মদ কাইমুল ইসলাম ছোটনঃ

কক্সবাজারে অতি বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও সামুদ্রিক জোয়ারের ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ। প্লাবিত হয়েছে ৫২৫ টি গ্রাম। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর দেখা দিয়েছে ভাঙন। সামনে আবারও পূর্ণিমার জোয়ার হওয়ার কারণে বেড়িবাঁধের ভাঙা অংশে কাজ শুরু করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

তবে এমন দায়সারা কাজের কারণে আরও ক্ষতি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্হানীয় বাসিন্দা ফাতেমা বেগম বলেন, টেকসই বেড়িবাঁধ না হওয়ায় জোয়ারের পানির কারণে আমাদের ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। কর্তৃপক্ষ জিও ব্যাগের জন্য বেড়িবাঁধ ঘেঁষে বালু উত্তোলনের কারণে বেড়িবাঁধের জিওব্যাগ ধ্বসে পড়ছে প্রতিনিয়ত। এটাও ধ্বসে পড়বে পানি আসলে।

মোহাম্মদ আলী নামের আরেকজন বাসিন্দা বলেন, ওনাদের বারবার বলা হয়েছে। এখান থেকে বালু না নিয়ে দূর থেকে বালি নেওয়ার জন্য। কিন্তু ওনারা শুনছে না।

সরেজমিনে ২ আগস্ট মহেশখালীর মাতারবাড়ি গিয়ে দেখা যায়, মাতারবাড়ী-ধলঘাটার বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে-উপচে জেয়ারের পানিতে শতাধিক ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। এসব ভাঙা অংশে কাজ না করে যেদিকে জিও ব্যাগ আছে সেখানে জিওব্যাগের কাজ করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড। এসব জিও ব্যাগে বালু ভর্তি করার জন্য মাতারবাড়ী-ধলঘাটার সমুদ্রসৈকত থেকে বেড়িবাঁধ ঘেঁষে বালু নিচ্ছেন তারা।

এর কারণে বেড়িবাঁধ আরও ঝুঁকিতে পড়ছে। নিচের মাটি সরে গিয়ে যেকোন মুহূর্তে এটি ধ্বসে পড়বে। ফলে পুরো বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় মাতারবাড়ী-ধলঘাটা বিলীন হয়ে যেতে পারে, অস্তিত্ব সংকটে পড়বে লক্ষাধিক মানুষ।

ইতোমধ্যে অনেকে জন্মভূমি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। পূর্বে এভাবে সংস্কারের কারণে বেড়িবাঁধ প্রতিনিয়ত ভাঙছে, পানি ধাক্কা লাগলে এগুলো সাগরে তলিয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান।

সহকারী অধ্যাপক সেলিম কুতুব উদ্দীন নেওয়াজ বলেন, এভাবে বেড়িবাঁধ ঘেঁষে বালু নেওয়ার কোন আইন নেয়। এর কারণে বেড়িবাঁধের ভাল অংশও ভেঙে যাবে। মাতারবাড়ী রক্ষার্থে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

কক্সবাজার জেলা বাপা’র সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ কলিম জানান, বালু দূর থেকে নেওয়ার কথা। কিন্তু ঠিকেদার কাছ থেকে নিচ্ছেন। এতে গর্ত ভাঙ্গনের কারণে বেড়িবাঁধ ধ্বসে পড়বে। এসব লুটপাট বন্ধের জন্য আমরা সঠিক তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।

মহেশখালী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহ্ফুজুর রহমান বলেন, এই বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

ঠিকেদার নজরুল বলেন , আমার কাজ চলতেছি কিনা দেখবো। দায়িত্বরত ব্যক্তি যদি অনিয়ম করে তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামীকে বারবার ফোন দেওয়া হলেও রিসিভ না করাই তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

Related News
- Advertisment -

Popular News

error: Content is protected !!