Monday, May 27, 2024
HomeNewsমহেশখালীতে আওয়ামী লীগ অফিসে ভাঙচুর;৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের

মহেশখালীতে আওয়ামী লীগ অফিসে ভাঙচুর;৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক আল্লামা মামুনুল হক ইস্যুতে মহেশখালীতে গভীর রাতে হঠাৎ দফায় দফায় লাঠি মিছিল হয়েছে। মিছিল থেকে বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, উপজেলার কালারমার ছড়ায় বৌদ্ধ মন্দিরে আক্রমণের চেষ্টা করা হয়েছে। বড় মহেশখালীতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ অফিসে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও থানা এলাকায় হামলা হয়েছে। উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটক বন্ধ থাকায় হামলাকারীরা বাইর থেকে ইটপাটকেল ছুঁড়ে উপজেলা শিক্ষা ভবন ও নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের কাঁচ ভাঙচুর করে। এ সব ঘটনায় রাতেই মহেশখালী থানায় পুলিশ বাদি হয়ে প্রায় ৩০০জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা যায়।

উক্ত মামলায় উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তারেক রহমান জুয়েলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার বিষয়ে হার্ডলাইনে যাচ্ছে প্রশাসন।
রাতেই মহেশখালী এসেছে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য। সংগ্রহ করা হচ্ছে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ।

হেফাজতের ব্যানারে মূলতঃ জামায়াত-বিএনপির লোকজন এ হামলা চালিয়েছে বলে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দাবি।

পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায় -হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ‘অবরুদ্ধ’ হয়েছেন— এমন খবর মহেশখালী এসে পৌঁছলে দেশের অন্যান্য এলাকার মতো মহেশখালীর ভিভিন্ন স্থানে হেফাজতের ব্যানারে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। গ্রাম এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল এসে বাজার এলাকায় জড়ো হয়।

বাংলাদেশ

রাত ১২টার কিছু সময় পর একটি বিশাল লাঠি মিছিল বড় মহেশখালী থেকে উপজেলা সদরে আসে, মিছিলটি পৌর শহরের গোরকঘাটা বাজার থেকে সড়কের দু’পাশে ভাঙচুর চালিয়ে উপজেলা পরিষদ এলাকায় যায়, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কাঁচের জানালা ভাঙচুর করে।
এ সময় মূল ফটক বন্ধ পেয়ে সরকারি কার্যালয় লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পরে মিছিলটি মহেশখালী থানার সামনে গিয়ে থানায় ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে স্লোগান দিতে থাকে।

ফটক বন্ধ থাকায় ভেতরে প্রবেশ করতে না পেরে বাইরে ভাঙচুর চালায়।

পরে মিছিলটি প্রধান সড়ক ধরে বড় মহেশখালী ফেরার পথে পালপাড়া এলাকায় সড়কের দু’পাশে বিভিন্ন হিন্দু বাড়িতে হামলা করে।
মিছিলকারীরা বড় মহেশখালী বাজারে পৌঁছে বড় মহেশখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি সিরাজ মিয়া বাশির ব্যক্তিগত কার্যালয়ে হামলা করে এবং বড় মহেশখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে গিয়েই হামলা-ভাঙচুর সহ অগ্নিসংযোগ করে।

এদিকে পুলিশ সূত্র জানায় -এর কিছু সময় আগে মহেশখালীর উত্তর অংশ কালারমার ছড়া এলাকায় একই কায়দায় বিক্ষোভকারীরা সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙচুর করে। এক পর্যায়ে ওই এলাকায় একটি ঐতিহ্যবাহী বৌদ্ধ মন্দিরে হামলা করার চেষ্টা চালায় বিক্ষোভকারীরা।

এ সময় পুলিশের একাধিক ইউনিট ওই এলাকায় গেলে মিছিলকারীরা দু’দিক থেকে পুলিশকে ঘিরে ফেলে হামলা করে। পুলিশ এ সময় ৬ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ওই এলাকায় বিক্ষোভকারীরা স্থানীয় যুবলীগ নেতা কলিমুল্লাহ হাসান মুন্নার বাড়িতে হামলা, ভাঙচূর ও লোকজনকে পিটিয়ে আহত করে।

প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে -সড়কের দু’পাশে মুজিব বর্ষ ও স্বাধিনতার ৫০ বছর পূতি উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর ছবি সম্বলিত ব্যানার, ফ্যাস্টুন ও বিলবোর্ড রয়েছে। বিক্ষোভকারীদের হামলার মূল লক্ষ্য ছিলো এ সব ছবি। বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে -রাত ১ টার পর বিক্ষোভকারীরা সরে যায়। এ ঘটনার পরপরই বিভিন্ন স্থানে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হয়, জোদার করা হয় পুলিশি টহলও। হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মীয় উপসনালয়গুলোতে বাড়তি নিরাপত্ত্বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ সময় বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে বড় মহেশখালী থেকে মহেশখালী উপজেলা ছাত্র দলের আহ্বায়ক তারেক রহমান জুয়েলকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এদিকে এ সব ঘটনায় রাতেই পুলিশ মামলা করেছে। মামলায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৩০০ জনকে আসামি করা হয়। আরও মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে এবং ভিডিও ফুটেজ দেখে আসামিদের সনাক্ত করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ঘটনার পর কক্সবাজার থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মহেশখালী এসেছে।

এ বিষয়ে মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হাই ঘটনার অনুরূপ বিবরণ দিয়ে বলেন, ইতোমধ্যে পুলিশ বাদি হয়ে মামলা করেছে, পুলিশ যে কোনো উপায়েই এমন জঘন্য ঘটনার সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করবে। এ সকল ঘটনার সাথে সম্পৃক্তদের সনাক্ত করে তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

মহেশখালী-কুতুবদিয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার(এএসপি) জাহেদুল ইসলাম জানান -ইতোমধ্যে মহেশখালীতে অতিরিক্ত পুলিশ আনা হয়েছে। সমগ্র বিষয়টিকে কঠোর ভাবে দেখছে পুলিশ।

বাংলাদেশ জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের ঘটনাস্থল পরিদর্শনঃ এদিকে আজ ০৪ এপ্রিল (রবিবার) জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌর মেয়র আলহাজ্ব মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জেলা আওয়ামী, জেলা যুবলীগ, ছাত্রলীগ সহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল হক সোহেল, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মারুফ আদনান সহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ।

এসময় বক্তরা উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও স্বাধীনতা বিরুদ্ধী অপশক্তি বিএনপি, জামাত-শিবির হেফাজতের নাম ভাঙিয়ে রাতের আঁধারে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় সহ সরকারি বেসরকারি স্হাপনায় হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। আমরা প্রশাসনের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানায়- হামলাকারী যে বা যারা হোক না কেন প্রয়োজনীয় তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। বক্তারা আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বলেন, আপনারা শান্ত থাকুন, দেশে আইন আছে প্রশাসন আছে। তাঁরা প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিবে।

Related News
- Advertisment -

Popular News

error: Content is protected !!