রবিবার, জুন ২৬, ২০২২
Homeখবরপল্লী বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে অতিষ্ঠ মহেশখালীবাসী

পল্লী বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে অতিষ্ঠ মহেশখালীবাসী

ইশরাত মুহাম্মদ শাহ জাহানঃ দেশের প্রথম ‘ডিজিটাল আইল্যান্ড’ কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী। মহেশখালীতে প্রবেশ করতে চোখে পড়বে ‘স্বাগতম’ শতাধিক বিদ্যুতায়িত উপজেলা মহেশখালী লেখা সম্বলিত সাইনবোর্ড।

কিন্তুঃ রমজানে ইফতার-সেহেরি ও তারাবির সময় বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে ৫ লক্ষাধিক মানুষের জনজীবন। কয়েকদিন ধরে প্রচন্ড তাপদাহ ও ভ্যাপসা গরমে মানুষের নাভিশ্বাস অবস্থা।

বিদ্যুতের এমন লোডশেডিং নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে তোলপাড়। অতিষ্ট হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। কেউ কেউ বলছেন, ডিজিটাল দ্বীপে লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে সরকারের সুনাম নষ্ট করতেই পল্লী বিদ্যুতের এক শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী এ অবস্থার তৈরি করছে। ফলে সরকারের প্রতি মানুষ আস্থা হারাবে।

এলাকাবাসী জানান, মহেশখালীতে প্রতিনিয়ত বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। আকাশে মেঘ জমলেই বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ হয়ে যায়। তথ্যপ্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমাধানের ব্যবহার নিশ্চিত করে সেবা পেতেও দূর্ভোগে পড়ছেন তারা। কেরোসিন তেল ও মোমবাতি কিনতে হচ্ছে, আবার লোডশেডিং থাকার পরও বিল দিতে হচ্ছে অনেক বেশি। ফলে বিদ্যুৎ বিভাগ হাতিয়ে নিচ্ছে অনেক টাকা।

লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে হাসপাতাল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। হাসপাতালে বিভিন্ন সেবা পেতে দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীরা। ব্যাহত হচ্ছে শিশুদের চিকিৎসাসেবা। ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদকে সামনে রেখে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জমে ওঠে। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বিপাকে পড়ছেন তারা। বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানান ব্যবসায়রা।

পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বলছে, মহেশখালীতে পল্লী বিদ্যুতের ৬১ হাজার ৮ শত ৬৬ জন গ্রাহক রয়েছেন। নিয়মিত ২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। পাশাপাশি প্রচণ্ড গরমের কারণেও বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় লোডশেডিং হচ্ছে।

গ্রাহকের অভিযোগ, দিনে ৭/৮ বার বিদ্যুৎ চলে যায়। ফোন দিলেও ফোন রিসিভ করেন না। লাইন মেরামতের নামে অসহনীয় লোডশেডিং করছে কর্তৃপক্ষ। বিদ্যুতের পর্যাপ্ত উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতার কারণেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মানছ না পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এমন অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানান মহেশখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।

মহেশখালী পৌরসভার বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহিলা বলেন, রমজানে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়েছে। বিদ্যুতের এমন ভেলকিবাজিতে সন্তানরা পড়তে বসতে চাই না। ইফতার ও সেহরির সময় নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানান।

এ বিষয়ে সাংবাদিক ও শিক্ষক আমিনুল হক জানান, লোডশেডিং হবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু ঘন ঘন লোডশেডিং সহ্য করার মতো না। স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা ঠিকমতো করতে পারতেছে না। হাসপাতালে রোগীরা কষ্ট পাচ্ছেন। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

হোয়ানক ইউনিয়নের বাসিন্দা ছাদেকুর রহমান জানান, সেহরি ও ইফতারের সময় মোবাইলে লাইট জ্বালিয়ে খেতে হচ্ছে। তারাবির সময়েও বিদ্যুতের দেখা মিলছে না। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ আমরা।

মহেশখালী জোনাল অফিসের ডিজিএম আল আমিন বলেন, গাছের ডাল ও খুঁটি ভেঙে গেলে বিদ্যুৎ সরবরাহ দিলে সমস্যা হয়। তাছাড়া রমজানে প্রচন্ড চাপের কারণে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সব জায়গায় একসাথে বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে ইফতার-সেহেরি ও তারাবির সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য যে, গত বছর মহেশখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অনিয়ম, হয়রানি ও ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা।

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর

জনপ্রিয় খবর

error: Content is protected !!