Saturday, May 18, 2024
HomeNewsমেয়র মকছুদ মিয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি ও ৬ লাখ ২২ হাজার ইয়াবা...

মেয়র মকছুদ মিয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি ও ৬ লাখ ২২ হাজার ইয়াবা উদ্ধার ঘটনায় পৃথক দুই মামলা

মহেশখালী (moheshkhali) পৌর মেয়র আলহাজ্ব মকছুদ মিয়া কে হত্যার উদ্দেশ্য গুলি, ২জন গুলিবিদ্ধ ও ২জন আহত, এবং ইয়াবা ডন সালা উদ্দিনের বাড়িতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা পরিদর্শনে গিয়ে তার গ্যারেজে পুড়া প্রাইভেট কারের ডিকি হতে ৬ লাখ ২২ হাজার ইয়াবা উদ্ধার ঘটনায় মহেশখালী (moheshkhali) থানায় পৃথক দুইটি মামলা রুজু করা হয়েছে।

গত ২৯ মার্চ দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার সময় মহেশখালী পৌরসভার ০৮ নং ওয়ার্ডের সিকদার পাড়ার যুদ্ধাপরাধী মৌলভী জকরিয়ার পুত্র সালাহ উদ্দীন সিকদারের নেতৃত্বে একদল লোক, মহেশখালী পৌর আওয়ামী লীগের অফিসের সামনে মহেশখালী (moheshkhali) পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব মকছুদ মিয়া কে হত্যার উদ্দেশ্য গুলাগুলি করে হামলা চালায়। এতে নুর হোসেন ও কাউছার নামের দুইজন গুলিবিদ্ধ এবং সামসুদ্দিন ও ভুবন নামের দুজন আহত হয়।

উক্ত ঘটনায় আহত শামসুদ্দিন বাদী হয়ে গত ৩১ মার্চ সালাহ উদ্দিন কে প্রধান আসামী করে ৯ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা রুজু করেন। মহেশখালী থানার যার মামলা নং ১৫০৯(৩)/২ তারিখ ৩১/০৩/২০২১ ইং

উক্ত মামলায় আসামী হলেন যারা-

১) সালাহ উদ্দিন (৪৬)পিতা মৌলভী জকরিয়ার।
২)মিসকাদ সিকদার (৩০) মৃত গিয়াস উদ্দিন।
৩) নওশাদ সিকদার মানিক(৩৫)পিতা মৃত গিয়াস উদ্দিন।
৪) মিজবাহ সিকদার (২৫)মৃত গিয়াস উদ্দিন।
৫)ফয়সাল ( ২৫) পিতা মোঃরশিদ।
৬)মোঃ মানিক ( ২৭)পিতা মোঃ রশিদ।
৭) রোস্তম আলী পিতা মৃত মোঃ সোলতান।
৮)মোঃ রশিদ (৩৮) পিতা মোঃ জফুর।
৯) আব্দু রহমান লেদু(৩০) পিতা ডাইলা।
সর্ব সাং গোরকঘাটা ০৮ নং ওয়ার্ড, মহেশখালী (moheshkhali) পৌরসভা কক্সবাজার।

এদিকে দক্ষিণ চট্টগ্রামের ইয়াবা ডন হিসেবে পরিচিত সালাহ উদ্দিনের গ্যারেজ থেকে গত ২৯ মার্চ দিবাগত রাতে ৬লাখ ২২ হাজার ইয়াবা ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সালাহ উদ্দিন কে আসামী করে অজ্ঞাতনামা ১০ জনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে আরও একটি মামলা রুজু করে।

উল্লেখ্য টেকনাফের পর ইয়াবার স্বর্গরাজ্য হিসেবে মহেশখালী আলোচিত। টেকনাফে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাঁড়াশি মাদক বিরোধী অভিযানে মাদক কারবারিরা যখন দিশেহারা হয়ে যায় তখন মহেশখালী দ্বীপকে বিকল্প স্টেশন হিসেবে বাছাই করে মাদকের গডফাদাররা।

গত ২৯ শে মার্চ দিবাগত রাতে মহেশখালী (moheshkhali) থানা পুলিশ সালাহ উদ্দিনের গ্যারেজে আগুন লাগার ঘটনা পরিদর্শনে গিয়ে পুড়া গাড়ির ডিকি হতে থ৬ লাখ ২২ হাজার পিছ ইয়াবা উদ্ধার করে ৷ যার বাজার মূল্য আনুমানিক ৯ কোটি টাকা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এই ইয়াবা উদ্ধারের পর থেকে মহেশখালীর সাধারণ মানুষের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। এতো বড় ইয়াবার চালান মহেশখালী বাসীর কল্পনাতেই ছিলোনা।

যেভাবে ইয়াবা উদ্ধার করে মহেশখালী থানা পুলিশ:

গত ২৯ মার্চ দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার সময় মহেশখালী পৌরভার সিকদার পাড়ার সালাহ উদ্দীন সিকদারের নেতৃত্বে একদল লোক পৌর আওয়ামী লীগের অফিসের সামনে মহেশখালীর পৌর মেয়র কে হত্যার উদ্দেশ্য গুলাগুলি করে হামলা চালায়। ঘটনাস্থলে নুর হোসেন ও কাউছার নামের দুইজন গুলিবিদ্ধ এবং সামসুদ্দিন ও ভুবন নামের দুজন আহত হয় ৷

ঘটনার ১ঘন্ট পর রাত আনুমানিক ২টার দিকে সালাহ উদ্দীনের ব্যাক্তিগত গাড়ির গ্যারেজে আগুন জ্বলতে দেখে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। ফায়ার সার্ভিস আগুন নেভানোর পর মহেশখালী থানা পুলিশ অগ্নিকান্ডের ঘটনা পরিদর্শনে যায়, পরিদর্শনে পুলিশের সন্ধেহ হলে- সালাহ উদ্দিনের গ্যারেজে তল্লাশি চালায়।

তল্লাশি চলাকালে আগুনে পোড়া প্রাইভেট কারের ডিকি হতে ৬ লাখ ২২ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করে। এসময় ২ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা আগুনে পুড়ে যায় এবং আগুনে ২টি মোটরসাইকেল ও একটি প্রাইভেট কার পুড়ে যায়।

তবে আগুনের সূত্রপাত কিভাবে হয়েছে তা জানা যায়নি৷ ধারনা করা হচ্ছে, মেয়র মকছুদ মিয়ার লোকদের গুলি করার পর বাড়িতে পুলিশ তল্লাশির ভয়ে নমুনা ধ্বংস করতে নিজেরাই আগুন লাগাতে পারে ৷

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র হতে জানা যায়,

ইয়াবার চালান আসছে এমন একটি খবরে মকছুদ মিয়ার সমর্থিত কিছু লোক সালাহ উদ্দীনের সিএনজিকে থামিয়ে তল্লাশি করার চেষ্টা করে। এসময় গাড়ির ড্রাইভার সালাহ উদ্দীনকে অবহিত করলে আরেক পথ দিয়ে এসে সালাহ উদ্দীন অস্ত্র বের করে গুলি করে।

তবে মেয়রের লোকজন জানান, মেয়রকে হত্যা করার জন্য সালাহ উদ্দীন দলবল নিয়ে অতর্কিত এসে হামলা করেছে।
এসময় তাকে বাধা দিতে গেলে নুর হোসেন ও কাউছার নামে দুজন গুলিবিদ্ধ হন এবং শামছুদ্দিন ও ভূবন নামে দুজন আহত হয়।

হামলার সংবাদ পেয়ে মহেশখালী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ৷ এসময় ঘটনাস্থল হতে গুলির খোসা উদ্ধার করে পুলিশ। খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, অভিযুক্ত সালাহ উদ্দীনের পিতা জাকারিয়া সিকদার যুদ্ধপরাধী মামলার ২নং আসামী এবং মেয়রের চাচাতো ভাই।

জমিজমা ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে মেয়র মকছুদ মিয়া ও সালাহউদ্দিন সিকদারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে।
সেই বিরোধের সূত্রেই এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ৷

মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবদুল হাই বলেন, “রাতে মেয়রের উপর হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরির্শন করে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের জন্য এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এসময় সালাহউদ্দিন সিকদারের বাড়িতে আগুন লাগার খবর শুনে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুনে পোড়া প্রাইভেট কার তল্লাশি করে বিশেষ কায়দায় রাখা ইয়াবা গুলো উদ্ধার করে।

এবং আগুনে পুড়া দুইটি মোটর সাইকেল ও প্রাইভেট কারটি জব্দ করে ৷

উপস্থিত লোকজনদের তথ্যমতে অভিযুক্ত সালাহউদ্দীন নিজেই গাড়িটি ড্রাইভ করত ৷ এবং ঘটনার রাতে আনুমানিক রাত ১০টার দিকে তিনি ড্রাইভ করে গাড়িটি গ্যারেজে রাখেন ৷ এবং জব্দকৃত মোটর সাইকেল দুটি ইয়াবা বহনের কাজে ব্যাবহার হতো বলে জানা যায়।

এবিষয়ে পুলিশ বাদি হয়ে সালাহ উদ্দীনকে প্রধান আসামী করে অজ্ঞাতনামা ব্যাক্তিদের আসামী করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়।

অপর দিখে মেয়র আলহাজ্ব মকছুদ মিয়া কে হত্যার উদ্দেশ্য গুলাগুলির ঘটনায় শামসুদ্দিন বাদী হয়ে ৯ জনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে একটি মামলা রুজু হয়।

Related News
- Advertisment -

Popular News

error: Content is protected !!