Monday, May 20, 2024
HomeEducationMagazineচট্টগ্রাম আঞ্চলিক গানকে ঋদ্ধ করেছেন যিনি- অ হালাচান গলার মালা

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক গানকে ঋদ্ধ করেছেন যিনি- অ হালাচান গলার মালা

আমাদের চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানকে যাঁরা ঋদ্ধ করেছেন তাদের মধ্যে সবচে গুরুত্বপূর্ণ এবং অগ্রগণ্য শিল্পী হলেন আমাদের মাতারবাড়িবুলবুল আক্তার। তাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলার কারণ হচ্ছে এই, তাঁর গান গুলোতে ফিলোসফিকাল একটা ব্যাপার আছে যা সিরাজদের মতো প্রতিবাদী ও বিদ্রোহী শিল্পীদের মধ্যে সাধারণত খুব একটা দেখা যায় না। উপমার ব্যবহার এবং ভাবের গভীরতায় বুলবুল অন্যদের ছাড়িয়ে যান নি:সন্দেহে। তাঁর প্রায় গানে প্রিয় মানুষের জন্য গ্রামীণ রমণীর তীব্র হাহাকার দেখা যায়।
তিনি যখন
‘বন্ধু তোঁয়ার ফটো চাই,
থাইক্কুম হনা হদিন আই রে,
মাথার বালিশ বুকত রাখি কেনে রাইত্তান হাড়াইরে
অরে আঁর সোনা বন্ধুরে’
কিংবা
পেট পুরেদ্দে তোঁয়ারলাই’
গেয়ে ওঠেন তখন প্রেমিক নারী-পুরুষের তীব্র আকাঙ্ক্ষা দেখতে পাওয়া যায়।
আবার যখন তাঁর গলায়,
‘নবুজি পিরিতি গরি হাঁদি হাঁদি বুক ভাসাই
মনর জ্বালা হার হাছে বুজাই’
‘বিষের মতো লাগের আঁর সোনার ঘর বারি,
পরান বন্ধু কেনে গেইলগৈ আঁরে ছারি।’
কিংবা
‘প্রেম নগরি সুখেরে আছিলাম’ শুনি তখন প্রেমিক মনের তীব্র জ্বালা ও ব্যর্থ প্রেমিকের হাহাকার টেঁর পাওয়া যায়।
একটা সময় ছিল তিনি পুরো চট্টগ্রামের দক্ষিণ অঞ্চল কাঁপিয়েছেন। আদিনাথ মেলার যাত্রায় তাঁর গানের একছত্র আধিপত্য ছিল। এলাকার তরুণদের রেডিওতে বাজতো তাঁর গান। কিন্তু দু:খজনকভাবে বর্তমান আধুনিক সমাজ তাকে এবং তাঁর কালজয়ী ফোক মিউজিককে ভুলতে বসেছে। সরওয়ার কামাল(বিসিএস প্রশাসন, নেত্রকোনায় কর্মরত) তাঁর এক স্ট্যাটাসে বুলবুলের গাওয়া ‘প্রেম নগরি সুখেরে আছিলাম’ গানটি পোস্ট করে বলেছিলেন, Once very popular singer, Bulbul akhter is rarely seen singing online. It may have taken in rural confine of relatives where marginal folks clamped her insisting reveal her past glory. The elite may find it beyond their taste, for it is so simple and blunt. Still it deserved to be nurtured as a weapon of cultural defence for Chittagonian.
কবি জাহেদ সরওয়ার সম্পাদিত ‘আলোকিত মহেশখালী’ গ্রন্থ হতে ধার করে জানতে পারি, ‘বুলবুল আক্তারের জন্ম ১৯৬৪ সালে মাতারবাড়ী ইউনিয়নে। বাবা মাইজভাণ্ডারের মুরিদান ছিলেন। প্রতিদিন মাজারে মাইজভাণ্ডারের কলের গান বাজত। সেটা শুনে শুনে ছয়-সাত বছর বয়সে বুলবুল আক্তার গান গাইতে শুরু করেন, হারমোনিয়াম বাজাতে শিখেন। এরপর আস্তে আস্তে বুলবুল আক্তারের সুনাম ছড়িয়ে পড়তে থাকে।’
গভীর রাতে যখন মন খারাপ হয়ে আমি হলের জানালার দ্বারে বসে থাকি, যখন আমি এলাকার জন্য নস্টালজিক হয়ে পড়ি তখন বুলবুল আক্তারের গান শুনি। শেখড়ের টান অনুভব করি। অনেকেই শুনে অবাক হবেন আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের গাইবান্ধার বন্ধু রাকিবকে বুলবুলের ‘অ হালাচান গলার মালা
পেট পুরেদ্দে তোঁয়ারলাই’ গানটা শিখিয়েছি। সে আর আমি রাতে ঢাকার রাস্তায় হেঁটে হেঁটে গানটা গাই।
Related News
- Advertisment -

Popular News

error: Content is protected !!